সমকামিতা সম্পর্কে আপনার কি জানা উচিত

আমরা ছিলাম। আমরা আছি। আমরা থাকবো।

যৌন প্রবৃত্তি কি?

যৌন প্রবৃত্তি বলতে বোঝায় পুরুষ, নারী, উভয় লিঙ্গের প্রতি পার¯পারিক আবেগ, প্রণয় এবং /অথবা যৌন আকর্ষণজনিত এক স্থায়ী সম্পর্কাবস্থা। এই যৌন প্রবৃত্তির একটি প্রান্তে কেউ কেউ শুধু মাত্র বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, আর অপর প্রান্তে কেউ কেউ শুধু মাত্র সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে। তবে সাধারণত যৌন প্রবৃত্তিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়ঃ বিপরীতকামিতা (বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ), সমকামিতা (সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ) এবং উভকামিতা (উভয় লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ)।

rainbow-flag

একজন ব্যক্তি কিভাবে বুঝবে সে সমকামী বা উভকামী?

যখন জানবার তখনই জানা যাবে। এটা জানতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, এবং এর জন্যে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। মূল আকর্ষণটি প্রাপ্তবয়ষ্কদের যৌন প্রবৃত্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং সেটা সাধারণতঃ শিশুকালের মধ্যবর্তি সময় থেকে শুরু করে কৈশোরের শুরুর দিক থেকেই অনুভূত হয়। এখানে বলা যায় যে, ভিন্ন ভিন্ন সমকামী বা উভকামীদের ক্ষেত্রে তাদের যৌন প্রবৃত্তির বিষয়ে বেশ ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। কোন কোন মানুষ কারো সাথে প্রকৃত সম্পর্ক স্থাপনের অনেক আগে থেকেই বুঝতে পারেন যে তারা সমকামী এবং উভকামী। কেউ কেউ তাদের যৌন প্রবৃত্তি জানবার বা বুঝবার আগেই অন্যদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে। আবার কোন কোন মানুষ নিজেদের যৌন প্রবৃত্তি সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে সুনির্দিষ্টভাবে না জেনেই যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এখানে একটা কথা বলতে হয় যে, সংস্কার ও বৈষম্যের ফলে অনেকের পক্ষেই নিজেদের যৌন প্রবৃত্তি ও পরিচিতি তুলে ধরা বা প্রকাশ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তারা বলতে পারেনা যে, তারা সমকামী বা উভকামী। ফলে তাদের প্রকৃত পরিচিতি প্রকাশিত হবার বিষয়টি বিলম্বিত বা সময় সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।

কি কারণে একেকজন ব্যক্তির যৌন প্রবৃত্তি একেক রকম হয়?

বিজ্ঞানীরা কখনোই একমত হয়ে বলতে পারেননি যে, কি কারনে একজন ব্যক্তি বিপরীতকামী, সমকামী এবং উভকামী হয়ে থাকে বা ওই সব যৌন প্রবৃত্তি ধারণ করে থাকে। অনেকেই মনে করেন যে, এক্ষেত্রে প্রকৃতি ও পরিবেশ উভয়েই একটি জটিল ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষ তাদের ত্বকের রং যেমন বাছাই করতে পারে না, ঠিক তেমনি যৌন প্রবৃত্তি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা সীমিত।

সংস্কার ও বৈষম্য বিপরীতকামী, সমকামী এবং উভকামী মানুষদের ক্ষেত্রে কি ভূমিকা পালন করে ?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে সকল সমকামী বা উভকামী ব্যক্তি প্রকাশ্যে নিজেদের পরিচয় দিয়ে থাকে, তারা অনেকই সংস্কারজনিত ঘৃণা, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে। অনেকেই তাদের স্কুলে, বিশ্ববিদ্যালযে এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়। তাদেরকে স্বাস্থ্য সেবা ও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং পরিবারের সদস্য ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে তেমন সমর্থন পায় না। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের রেখে যাওয়া ১৮৬০ সালে প্রণীত দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুসারে একই লিঙ্গের দু’জন মানুষের যৌন সঙ্গম যাবজ্জীবন কারাদন্ডযোগ্য অপরাধ। এর ফলে খুব কম সংখ্যক মানুষই তাদের যৌন প্রবৃত্তির কথা প্রকাশ করে থাকে বা করতে পারে। এর ফলে অধিকাংশ মানুষই গোপনীয়তা ও মিথ্যার জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়। যার ফলে তাদের জীবনাচরণ নৈতিকতা বিরুদ্ধ হয় এবং গোঁড়ামির শিকার হয়। বিপরীত লিঙ্গের সাথে বিয়ে নারীদের জন্যে নির্বাণপ্রাপ্তি বলে ধরে নেয়া হয়। যার ফলে নারী সমকামীদের ক্ষেত্রে সমাজে সহনশীলতার মাত্রা একেবারেই কম।

সংস্কার ও বৈষম্য একজন ব্যক্তির মানসিক অবস্থার ওপর কি রকম প্রভাব ফেলে?

সমকামভীতি বাংলাদেশে একটা ব্যাপক আকার ধারণ করে আছে এবং তা সমকামীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ভালো থাকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন তা তাদের যৌন প্রবৃত্তি গোপন রাখতে বা তাদের যৌন প্রবৃত্তিকে অস্বীকার করতে বাধ্য করে। সংস্কার, বৈষম্য এবং সহিংসতা সমকামীদের ওপর প্রচন্ড মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার ও অন্যান্যদের এক গবেষণায় দেখা যায় যে, বাংলাদেশের শতকরা ৪৭ ভাগ ‘সমকামী পুরুষ’ অন্ততঃ একবার আত্মহত্যা করার কথা ভেবেছে।

সমকামী এবং উভকামী মানুষদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সহিংসতা রোধ করার জন্যে সবাই কি করতে পারে?

যেসব সমকামী এবং উভকামী মানুষ সহিংসতা ও বৈষম্য রোধ করতে চায় তারা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজেদের যৌন প্রবৃত্তি প্রকাশ করতে পারে। আর যেসব বিপরীতকামী মানুষ সহযোগিতা করতে চায় তারা সমকামী এবং উভকামী মানুষদের জানার চেষ্টা করতে পারে এবং একই সাথে এই জনগোষ্ঠির সাথে সম্পৃক্ত সংগঠনগুলোর সাথে কাজ করতে পারে।

সমকামিতা কি একটা মানসিক ব্যাধি, অক্ষমতা, অপ্রাকৃতিক বা অস্বাভাবিক?

না। সমকামী এবং উভকামী প্রবৃত্তি কোন ব্যাধি নয়। কয়েক দশক ধরে গবেষণা ও ক্লিনিকের অভিজ্ঞতার ফলে প্রধান প্রধান স্বাস্থ্য ও মনঃস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এই প্রবৃত্তিগুলো মানুষদের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতারই প্রতিনিধিত্বমূলক।নারী ও পুরুষদের মধ্যেকার স¤পর্কের মতই সমলিঙ্গীয় সম্পর্কও স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৯০ সালে মানসিক রোগের তালিকা থেকে সমকামীতাকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।

চিকিৎসার মাধ্যমে যৌন প্রবৃত্তি পরিবর্তন করা কি সম্ভব?

সমকামী বা উভকামী হওয়াটা সম্পূর্ণরূপেই স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর। এটা কোনপ্রকার অসুস্থতা নয় এবং তাই এর জন্যে কোনপ্রকার চিকিৎসারও দরকার নেই। আজ পর্যন্তও কোন প্রকার বৈজ্ঞানিক গবেষণা দিযে এটা প্রমাণ করা যায়নি যে, কোনপ্রকার থেরাপির সাহায্যে যৌন প্রবৃত্তি পরিবর্তনের বিষয়টি নিরাপদ বা কার্যকর। উপরন্তু, এই সব চিকিৎসার প্রয়াস সমকামীদের সম্বন্ধে প্রচলিত ধারণাগুলোকে আরও জোরদার করে এবং প্রতিকুল পরিবেশ সৃষ্টি করে।

সমকামিতা কি একটি পাশ্চাত্যের ধারণা?

না। সমকামিতা প্রত্যেকটি সমাজ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমনকি অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যেও এর উপস্থিতি দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন জরীপে দেখা গেছে যে, প্রতি ১০০ মানুষের মধ্যে ১ থেকে ১০ জন সম লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য, মোঘল চিত্রকর্ম ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে দেখা যায় যে, ইতিহাসের আদিকাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশে সমকামিতা বিরাজমান ছিল।

সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমকামীদের প্রতি বৈষম্যকে কি সমর্থন করা যায়?

সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন বর্ণবাদ ও লিঙ্গবৈষম্যকে সমর্থন করা যায় না, তেমনি সমকামীদের প্রতি বৈষম্যের অবকাশ নেই । সমকামী বা উভকামী মানুষদের হয়রানী করা, তাদের অধিকার ও মর্যাদাকে অস্বীকার করা অথবা আইনের কাছে অভিযুক্ত করা ইত্যাদি কোন ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নয়, বরং এগুলো অনৈতিক এবং অমানবিক।

“Coming Out“ বা “আত্মপ্রকাশ“ দিয়ে কি বোঝায় এবং এটা গুরুত্বপূর্ণ কেন?

অন্যের কাছে নিজেকে সমকামি বা উভকামি বলে পরিচয় দেয়াকে বলা যেতে পারে “Coming Out“ বা “আত্মপ্রকাশ“। অনেকের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য মানসিক পদক্ষেপ। যেসব সমকামী বা উভকামী নারী পুরুষ মনে করেন যে, তাদের যৌন প্রবৃত্তি গোপন রাখা দরকার তারা প্রায়শঃই মানসিক উদ্বেগে ভোগেন। অথচ, যেসব সমকামী নারী পুরুষ তাদের পরিচয় নিয়ে অনেক খোলামেলা তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা কম। তবে, আপনি তখনই আত্মপ্রকাশ করবেন যখন আপনি সেটা করতে চান এবং তার জন্যে আপনি প্রস্তুত। যদিও আপনি আশা করতে পারেন যে আপনার বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা আপনাকে সমর্থন দেবে, অনেক সময়ে হয় তার উল্টো। আপনি যদি অর্থনৈতিক দিক থেকে আপনার বাবা-মার উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের কাছে আত্মপ্রকাশ করার আগে অপেক্ষা করাই ভাল। এমনটি হতে পারে যে তাদের বিদ্রুপ প্রতিক্রিয়ার কারণে আপনাকে বাড়ী ছাড়তে হচ্ছে, বিপরীত লিঙ্গের কাউকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে হচ্ছে, অথবা অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকারক মনঃচিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আপনি যখন নিজেকে প্রকাশ করবেন, তখন এমন একজনকে দিয়ে শুরু করবেন যার উপর আপনি ভরসা রাখতে পারেন। সমকামী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করাটা জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ গুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু তা আবার জীবনের সবচেয়ে ফলপ্রসূও হতে পারে। নিজেকে প্রকাশ করে আপনি আপনার এবং অন্যান্য সকল নারী-পুরুষ সমকামী ও উভকামীদের আত্মমর্যাদা নিশ্চিত করতে সহায়ক হচ্ছেন।

সমকামিতা কি পাপ?

ইহুদীধর্ম, খৃষ্টধর্ম এবং ইসলাম ধর্মে প্রথাগতভাবে সমলিঙ্গীয় যৌন আচরণকে পাপ বলে গণ্য করা হত। হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈন এবং শিখধর্মে সমকামিতা সম্পর্কিত অনুশাসন যথেষ্ট পরিষ্কার নয় এবং এসব ধর্মেও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে বিভিন্ন মত পোষণ করে থাকেন। বর্তমানে সকল ধর্মেরই কিছু কিছু নেতারা ক্রমশ সমকামিতাকে মেনে নিচ্ছেন, এমনকি সমকামী বিয়েকেও অনুমোদন করছেন। প্রগতিশীল মুসলমান বিদ্বজ্জনদের মধ্যে কেউ কেউ সমকামিতাকে (সমলিঙ্গীয় ভালবাসা) নিন্দা না করে এর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। বহু বাংলাদেশী সমকামী ও উভকামী আছেন যারা নিজেদের ধর্মীয় অনুশাসনের সাথে যৌন প্রবৃত্তির বিরোধ খুঁজে পায় না।

In a nutshell:

সমকামী বা উভকামী হওয়াটা সম্পূর্ণরূপেই স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর। সমকামিতা কোন মানসিক ব্যাধি, অক্ষমতা, অপ্রাকৃতিক বা অস্বাভাবিকতা নয়। বরং, একজন মানুষের ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার মতোই তা স্বাভাবিক।

আপনি যদি সমকামী বা উভকামী হন, নিজেকে একা ভাববেন না। বাংলাদেশে হাজার হাজার সমকামী বা উভকামী মানুষ রয়েছেন। তাদের অনেকেই সংঘবদ্ধ, যেখানে আপনি সহযোগিতা পেতে পারবেন। আপনি যদি কারো সাথে কথা বলতে চান তাহলে বন্ধু’র (BSWS) হেলপলাইনে ফোন করে বিনামূল্যে এবং পরিচিতি গোপন রেখেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ সেবা পেতে পারেন। ফোন নম্বরটি হচ্ছে – ০১৭১৪ ০৪৮৪১৮। এছাড়াও আপনি www.bandhu-bd.org ওয়েবে লগ-ইন করে পরামর্শকদের সাথে কথা বলতে পারেন [রোববার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা]।

সমকামী বা উভকামী নারী পুরুষদের অধিকার মানবাধিকারের অংশ। “প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্মতিসূচক সমকামিতাকে কোন রকম অপরাধ হিসেবে গণ্য করা গ্রহণযোগ্যনয়” – অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস। সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এমন আইনগুলো মর্যাদা ও সমতার মৌলিক নীতি বিরুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। এগুলো সামাজিক অপবাদগুলোকে জোরদার করে, অসমীচীন বৈষম্যকে উৎসাহিত করে, জনগণের স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক প্রচেষ্টাগুলোর ক্ষতি করে এবং যা কেবলই পূর্বসংস্কারজনিত।

আপনিও অ্যাডভোকেসি ও আউটরিচ কর্মসুচির মাধ্যমে সমকামী বা উভকামী নারী পুরুষদের বিরুদ্ধে সংস্কার, বৈষম্য ও সহিংসতা রোধে সহায়তা করতে পারেন।

অনুবাদকারী: রিয়াজ ওসমানী

Note: Anyone may, without requesting permission, reprint this brochure for noncommercial and educational use. We encourage you to make and distribute copies of this brochure. Please find a print-ready PDF version of this brochure here.

Publishers: Boys of Bangladesh (BoB)Bangladesh Liberal Forum (BLF)Bandhu Social Welfare Society (BSWS)

Editors: Shale Ahmed, Tanvir Alim, Rainer Ebert, Shakhawat Hossain

Parts of this brochure are excerpts from the website of the American Psychological Association (APA). The original text can be found at www.apa.org/topics/sexuality/sorientation.pdf

© 2008 APA, 2013 BLF, BoB & BSWS

Advertisements